প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগুনে পোড়া কোনও রোগীকে আর বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। এ ধরনের রোগীরা এখন থেকে ঢাকা মেডিক্যালেই বিশ্বমানের সেবা পাবেন। পোড়া রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগীদেরও যথাযথ চিকিৎসার জন্য সরকার আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে চিকিৎসক ও নার্সদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ও মেজর জেনারেল মো. সিদ্দিকুর রহমান সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি স্মারক উপহার দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে এই ধরনের ঘটনা  আর ঘটুক, আমি চাই না। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ যারা করবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে যা যা করণীয়, আমরা করবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একদিকে গড়ে তুলি, আর ওরা ধ্বংস করে। বিএনপি-জামায়াতের কাজ হচ্ছে ধ্বংস করা। সেই সময় এই পোড়া মানুষগুলোর চিকিৎসা দিতে হয়েছে। অনেককে আমরা বিদেশে পাঠিয়েও চিকিৎসা করে নিয়ে এসেছি। তাদের আন্দোলন কী মানুষ পুড়িয়ে মারা! এইভাবে আগুন দিয়ে দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে তারা পুড়িয়েছে। প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি মানুষকে তারা পুড়িয়েছে। প্রায় ৫শ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। প্রায় ৩ হাজার ৮টি গাড়ি পুড়িয়েছে। আমি আমার সাধ্যমতো সবাইকে সাহায্য করেছি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে যেন আবার কেউ এই ধরনের জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় মেয়াদের ৫ বছর সময় প্রায় শেষ। আগামী নির্বাচনে যদি আবার ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে বাকি কাজ শেষ করতে পারবো। আর যদি ভোটে না আসতে পারি, তাহলে বার্ন ইউনিটের মতো কর্যক্রম যেন থমকে না যায়। এর উন্নয়ন অগ্রগতি আপনারা অব্যাহত রাখবেন।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস করেছি। যেকোনও স্থানে আগুন লাগলে যাতে দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলতে পারে, মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি যেন না হয়। ঢাকা শহরকে পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতাল গড়ে তুলছি। ডাক্তাররা যাতে এক্সপার্ট হন, সেজন্য বিদেশ থেকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাতে ১০ বছর সময় পেয়েছি, পরিশ্রমও করছি। যে কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশকে বিশ্ববাসী এখন সম্মানের চোখে দেখে।’  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল বার্ন ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here