এস এম রুবেল মাহমুদ ঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌতুকের টাকার জন্য শ্বাশুরী ও চাচী শ্বাশুরী মিলে অন্তস্বত্তা মিনারা আক্তার (২৫)কে পিটিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেলে আড়াইহাজার পৌরসভার কৃষ্ণপুরা এলাকা এঘটনা ঘটে। আহত পুত্রবধু মিনারাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয়রা জানায়, গত পাঁচ বছর আগে মাধবদী থানার কাঠালিয়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার মেয়ে মিনারা আক্তারের সাথে আড়াইহাজার পৌরসভার কৃষ্ণপুরা গ্রামের সেরাজউদ্দিনের ছেলে দ্বীন ইসলামের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ছেলেকে এক লাখ দশ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে প্রদান করা হয়। বিয়ের পর মিনারার আক্তারের সাথে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের ভালো আচরণ করলেও বছর ঘুরতেই যৌতুকের টাকার জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। এর মধ্যে মিনারা অন্তসত্ত্বা হলে তার প্রতি নির্যাতনের মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। মিনারার স্বামী অটো চালক দ্বীন ইসলাম তার স্ত্রীকে সমঝোতা করে চলার জন্য উল্টো চাপ প্রয়োগ করে। সোমবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে মিনারাকে চাপ প্রয়োগ করে শ^শুর ও শ^াশুরী। টাকা আনতে অপারগতা স্বীকার করলে শ্বাশুরী কমলা বেগম ও চাচী শ্বাশুরী মনোয়ারা মিলে অন্তস্বত্তা মিনারাকে বেধরক পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে মিনার বড় ভাই হাফিজুল তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত পুত্রবধু মিনারা আক্তার জানান, শ্বাশুরী ও চাচী শ্বাশুরী মিলে তাকে পিতার বাড়িতে থেকে টাকা এনে দেয়ার কথা বলে। তার পিতা জমি বিক্রি করে বিয়ের সময় এক লাখ দশ হাজার টাকা দিলেও তাদের চাহিদা শেষ হয়নি। এখন পিতার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। নিজেরাই কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন।

বিয়ের সময় এক লাখ দশ হাজার টাকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মিনারার স্বামী দ্বীন ইসলাম বলেন, সংসার করলে এরকম একটু আটটু ঝগড়া হয়েই থাকে।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) শফিউল আলম জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here