জি আর আরমান:রেলপথ মন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম সুজন গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ থেকে উত্তোরণে তিনি স্টেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক মাসের আলটিমেটাম দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে না পারলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

রেলপথমন্ত্রী গতকাল আকস্মিক কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে যাওয়ার আগে প্রশাসনিক ভবন থেকে স্টেশনে প্রবেশের সময় নার্সারির পাশে পরিত্যক্ত একটি ভবন দেখতে পেয়ে তার গাড়িটি থামান। এই স্থানে আগের রাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় মন্ত্রী একটু দূরে গিয়ে নামেন। তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, এটি কিসের ভবন? সিটি করপোরেশনের পাবলিক টয়লেটের কথা জানানোর পরই মন্ত্রী অনেকটা ক্ষিপ্ত হন এবং বলেন, এগুলো বন্ধ, পরিত্যক্ত কেন? স্টেশন এলাকায় এর রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে? সিটি করপোরেশনের বলে কি এটি ফেলে রাখবেন? তাহলে আপনাদের কাজ কী?

রেলপথ মন্ত্রী তাদের উদ্দেশে আরো বলেন, ‘টয়লেট বন্ধ বলেই তো মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রসাব করছে। টয়লেট খোলা থাকলে তো এই মানুষগুলো এখানে সেখানে প্রসাব-পায়খানা করত না।’ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার এসেছে। নতুন মন্ত্রী। জনগণের জন্য এ উপলক্ষে নতুন কিছু কাজ করেন। এভাবে দায়সারা কাজ করলে চলবে না। আপনাদের কার্যক্রমে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। মানুষের স্বার্থে দ্রুত এটি খুলে দেন।’ পরে রেলপথ মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। তবে সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। অব্যবস্থাপনা দূর করার পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এখানকার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এক মাসের সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে সংস্কার করতে হবে। পরিবর্তন না হলে ব্যবস্থা।’

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের যাত্রী ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন নয়া দিগন্তের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেশনে যেসব ট্রলি দিয়ে লাগেজ পরিবহন করা হয় এসবের চাক্কার ‘ঘর-ঘর’ শব্দে কান ফেটে যাওয়ার অবস্থা হয়। আছে কুকুরের উৎপাত। স্টেশনের বেঞ্চে বসে থাকলে বাতাসে ময়লার দুগন্ধ ভেসে আসে। দিনের বেশির ভাগ সময় পুরো স্টেশন থাকে নোংরা। এসব থেকে উত্তোরণ হতে না পারলে শুধু এক টয়লেট পরিষ্কার করে লাভ হবে না? তার দাবি, রাতের ট্রেনে যাত্রীদের ভ্রমণ করার সময় যেসব বিছানার চাদর আর বালিশ সরবরাহ করা হচ্ছে সেগুলো ঠিকমতো ধোলাই করা হয় না অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, রাতে কমলাপুর স্টেশন ও ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের ভেতরের চিত্রও রেলপথ মন্ত্রী মহোদয়কে দেখার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here