গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের স্ত্রী ও এক ছাত্র হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালকের শশুর ও নিহত মাহমুদা আক্তার স্মৃতির বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে গাজীপুরের বাসন থানায় বুধবার মামলাটি করেন। মামলায় মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে প্রধান ও অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাসন থানার ওসি মুক্তার হোসেন  জানান, নিহত মাহমুদা আক্তারের বাবা ইব্রাহিম খলিলকে আসামি করে বুধবার বিকালে থানায় মামলা করেছেন। এসময় নিহত ছাত্র মামুনের বাবাও উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে এবং অভিযুক্ত মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিল মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করার সময় বিয়েতে অন্য লোককে নকল বাবা মা সাজিয়ে এনে বিয়ে করেন। পূর্বে হেলেনা নামে তার একটি স্ত্রী রয়েছে। বিয়ের সময় ইব্রাহিম খলিল প্রথম বিয়ের কথা গোপন করেন। মাহমুদার বিয়ের কিছু দিন পর ইব্রাহিম খলিলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি টের পান। পরে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা বিষয়টি মেনে নেন।

মামলায় বাদী আরও অভিযোগ করেন, তার মেয়ে মাহমুদাকে এবং ছাত্র মামুনকে জামাতা ইব্রাহিম খলিলই খুন করেছেন। খুন করার আগের দিন সোমবার মাগরিবের নামাজের পর ছাত্রদের দিয়ে একটি দা ধার করান। সেই রক্তমাখা দা পুলিশ ঘটনাস্থলে মশারির ভেতর থেকে উদ্ধার করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, পরিচালক ইব্রাহিম প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় সব ছাত্রদের নিয়ে মসজিদে যান। কিন্তু ঘটনার দিন ভোরে সব ছাত্রদের মসজিদে পাঠিয়ে দিয়ে নামাজ শুরুর এক মিনিট আগে তিনি মসিজদে যান।

এসময় তার লুঙ্গিতে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায় এবং পানি দিয়ে রক্ত ধোয়ার চিহ্নও লুঙ্গিতে রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার মেইন গেটে তালা দিয়ে যান। ঘটনার দিন মেইন গেটে তালা না দিয়ে চলে যান। তিনি ধারণা করেন মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটা থেকে ভোর ৫টা ১০ মিনিটের মধ্যে ইব্রাহিম খালিল ও অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনকে নিয়ে তার মেয়ে মাহমুদা ও ছাত্র মামুনকে হত্যা করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা পূর্বপাড়া এলাকায় হুফফাজুল কোরআন মাদ্রাসার ভেতরে মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার স্মৃতি (২৫) ও ছাত্র মামুনকে (৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here