বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে দেওয়া ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এতদিন এ ঋণের সুদের হার এলাকা ভেদে ১০ ও ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। সুদের হার কমানোর পাশাপাশি ঋণের পরিমানও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, গত আগস্টে বিএইচবিএফসির পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৭তম বৈঠকে আগের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়। ওই বিভাগ থেকে অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে তার অভিমত জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী তাতে সায় দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ঈদের ছুটির আগে অর্থমন্ত্রী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘হ্যাঁ, ঋণের সুদের হার অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব এবং বেসরকারি বেশ কিছু ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে। হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের একটি পরিচালনা পর্ষদ আছে। সেখানে বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে। আমার কাছেও পাঠিয়েছিল, আমি তাতে অনুমোদন দিয়েছি।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র সচিব গত ১ আগস্ট অবসরকালীন ছুটিতে যান। তার আগে গত ১৪ আগস্ট ঋণের সুদের হার কমানো সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর জন্য তৈরি একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ১৯৭৩ সাল থেকে গৃহ নির্মাণ ঋণ সহযোগিতা প্রদানে সবচেয়ে পুরনো একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের গৃহায়ন আবাসন খাতে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিএইচবিএফসির পাশাপাশি সরকারি মলিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংক/বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহও গৃহায়ন/আবাসন খাতে ঋণ প্রদান করছে। আবাসন খাতে ঋণ প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ সকল প্রতিষ্ঠানের ঋণের ঘোষিত সুদের হার করপোরেশনের তুলনায় কম এবং সিলিং তুলনামূলক বেশি। সে কারণে ৫টি নতুন প্রোডাক্ট চালুকরণ, বিদ্যমান সিলিং বৃদ্ধি ও সুদের হার হ্রাস করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পত্র জারি হয়। যা ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিএইচবিএফসির একজন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘৯ আগস্টের মধ্যে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটি মানতেই সুদের হার কমানো হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। ’

তিনি বলেন, ‘ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গত ৬ আগস্ট বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উপস্থাপন করে তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিএইচবিএফসি ১১ বছর পর ২০১৭ সালের ১ জুলাই সুদের হার কমায়। ২০০৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন নগরীর অতি উন্নত এলাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের অন্যান্য উন্নত এলাকায় বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ। ২০১৭ সালের ১ জুলাই তা কমিয়ে করা হয় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ৯ শতাংশের নতুন সুদহার কার্যকর হবে গত ১ জুলাই থেকে।

টঙ্গী, সাভার এবং অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে বাড়ি নির্মাণে দেওয়া ঋণের সুদহার ছিল ১০ শতাংশ, যা ১১ বছর পর ২০১৭ সালের ১ জুলাই কমিয়ে করা হয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এই সুদের হারটি অবশ্য বদলাচ্ছে না। ফ্ল্যাট কেনার ঋণের ক্ষেত্রেও ১১ বছর ধরে যে সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ, তা কমিয়ে ইতিপূর্বে করা হয় ১০ শতাংশ। এবার সেটিও হচ্ছে ৯ শতাংশ।

জানা গেছে, বিএইচবিএফসির পর্ষদ বৈঠকে ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ‘সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৯ শতাংশ এবং ফ্ল্যাট ঋণের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশ করার সুযোগ রয়েছে।’

এতে সংস্থার আয় কমে যাবে বলে প্রশ্ন ওঠে বৈঠকে। তবে তারও একটি সমাধান বের করা হয় বৈঠকে। জানা গেছে, বিএইচবিএফসি এখন ঋণ আদায় বাড়াতে আরও বেশি নজর দেবে এবং আদায় হওয়া টাকা নতুনভাবে বিনিয়োগ করা হবে।

এরই মধ্যে যে গ্রাহকরা ১০ এবং ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার কী হবে জানতে চাইলে বিএইচবিএফসির কর্মকর্তারা জানান, এ বছরের ১ জুলাই বা তারপর যেসব ঋণ মঞ্জুর হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেই কেবল নতুন সুদের হার কার্যকর হবে। ৩০ জুনের আগে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে আগের সুদহারই বহাল থাকবে। ৩০ জুন পর্যন্ত সব কিস্তি দেওয়া থাকলে ১ জুলাই থেকে তাঁদের ঋণের সুদ নতুন হারে কার্যকর হবে। কোনো গ্রাহক আপটুডেট না থাকলে, যে তারিখে আপটুডেট হবেন, সেই তারিখ থেকে তাঁর ঋণে নতুন সুদহার কার্যকর হবে।

জানা গেছে, বিএইচবিএফসির বর্তমান গ্রাহক ৩১ হাজার। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংস্থাটি ৪০১ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে এবং একই সময়ে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৬২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here