শিকড় সন্ধানে ডেস্ক রিপোর্ট: গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর, পিরুজালী ও ভাওয়াল গড় ইউনিয়ন এবং শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গাজীপুর-৩ আসনে জোরেশোরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ জন ভোটার নিয়ে গঠিত আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

টানা ৬টি নির্বাচনে এ আসন থেকে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট রহমত আলী। আগামী নির্বাচনেও তিনি এ আসনের শক্তিশালী প্রার্থী। গোটা এলাকায় তিনি এখনও সমান জনপ্রিয়।

বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে আগের মতো যোগ দিতে পারছেন না। এ সুযোগে তার ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয় মাঠে তৎপর রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, অসুস্থতাজনিত কারণে অ্যাডভোকেট রহমত আলী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে দুর্জয় প্রার্থী হতে পারেন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়া মানেই বিজয় নিশ্চিত। স্বাধীনতাপরবর্তী ফলাফলের ধারাবাহিকতা অন্তত সেটাই প্রমাণ করে। জনশ্র“তি আছে, এ আসনে ভোটাররা প্রার্থী নন, প্রতীক দেখে ভোট দেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেই বিজয় নিশ্চিত। এ কারণে মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে কেন্দ্রের দিকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ঝোঁক বেশি।

অ্যাডভোকেট রহমত আলী ও তার তার ছেলে দুর্জয় ছাড়াও আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা হচ্ছেন- গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, গাজীপুর জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দীন আহমদ, শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান।

জানতে চাইলে জামিল হাসান দুর্জয় বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গ-সংগঠনের কমিটিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমার তত্ত্বাবধানে এসব কমিটি গঠিত হয়েছে। দলের তৃণমূল যথেষ্ট শক্তিশালী। মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত।

ইকবাল হোসেন সবুজ  বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের ভিপি হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে মানুষের সেবা করেছি এবং এখনও করছি। গত ৯ম ও ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইব। হারিছ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন- ১৯৭৯, ৮৬, ৯১, ৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাইনি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইব। পেলে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত।

শামসুল আলম প্রধান বলেন, অ্যাডভোকেট রহমত আলী বিশাল মনের মানুষ। তার নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের নেত্রী বিগত সবক’টি নির্বাচনেই রহমত আলীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার নির্দেশেই কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বদল হলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশে। সম্প্রতি তৃণমূলে উপজেলা পরিষদের সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়নে শুরু করেছেন গণশুনানি।

তবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুর্গে আঘাত হানতে মরিয়া বিএনপি। তবে জাতীয় নির্বাচনে বারবার বিএনপির পরাজয়ের পেছনে শ্রীপুর উপজেলা থেকে প্রার্থী না দেয়ার কারণ হিসেবে দায়ী করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীরা মনে করছেন, শ্রীপুরের সাধারণ মানুষ এ উপজেলার বাইরে ভোট দিতে রাজি নন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা রয়েই গেছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা পীরজাদা মাওলানা এসএম রুহুল আমীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফজলুল করিম মণ্ডল জুয়েল।

অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করছি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির পর এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আছি। এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে আছি।

আসনটিকে আওয়ামী লীগের দুর্গ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় শ্রীপুরের ভোটার অনেক। কিন্তু শ্রীপুর থেকে বিএনপি কখনোই প্রার্থী দেয়নি। আর শ্রীপুরের মানুষও উপজেলার বাইরে ভোট দেননি। শ্রীপুর থেকে প্রার্থী দিলে অনেক আগেই পুনরুদ্ধার হতো আসনটি।’

বিএনপির অপর প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা সাখাওয়াত হোসেন সবুজ বলেন, দলের ছাত্র, যুব ও প্রবীণ নেতাকর্মীর সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। বিএনপির চরম দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। নানা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সংগঠিত করার জন্য ছাত্র জীবন থেকে কাজ করছি। বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি। মনোনয়ন পেলে জয় ছিনিয়ে আনব।

পীরজাদা মাওলানা এসএম রুহুল আমীন কেন্দ্রীয় ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি বলেন, আমি টানা ১৪ বছর পদে থেকে উপজেলায় কাজ করে যাচ্ছি। বিনিময়ে আমি দল থেকে কিছুই নেইনি। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে দৃঢ় আশাবাদী।

দলে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজাহান ফকির। দীর্ঘদিন তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি থাকায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির কমিটি তারই নেতৃত্বে চলছে।

শাহজাহান ফকির বলেন, কেন্দ্র মাঠ জরিপ চালিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। আর সেটা হলে তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তার প্রত্যাশা। ব্যারিস্টার ফজলুল করিম মণ্ডল জুয়েল বলেন, এ সরকারের আমলে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েছেন, আমি তাদের অনেকের পাশে দাঁড়িয়েছি।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. আজহারুল ইসলাম সরকার গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্টির মনোনয়ন পেয়েও দলের স্বার্থে ও পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক মণ্ডল বাচ্চুর নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হিসেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here