মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া:ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসৃষ্ট ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রার্থীরা। এখানকার অবৈধ আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দমনে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পদক্ষেপ নেবেন তারা। আর প্রকৃত শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

ডিএসসিসির সব ধরনের নাগরিক সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন প্রার্থীরা। তাছাড়া নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক ও বেওয়ারীশ কুকুর নিধন, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, সরকারী চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্ধকৃত টাকার সঠিক ব্যবহার, এলাকার কবরস্থানগুলোসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচন এ এলাকায় প্রথম হতে যাচ্ছে। তাই নির্বাচনী প্রচারণা চলছে ভিন্ন আঙ্গিকে। উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচনী মাঠ সরগম থাকলেও প্রার্থীদের মনে চলছে নানা চিন্তা ভাবনা। ভোটার ও সমর্থকদের মন জোগাতে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নানা প্রতিশ্রুতি ও আশার কথা জানালেও ভোটাররা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করবেন বলে তাদের অভিমত।

নগরির ডিএসসিসির নবসম্পৃক্ত ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড ডেমরার সাবেক সারুলিয়া ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ড এলাকা। ডেমরা থানাধীন শুকুরসী জোকা, সান্দিরা জোকা তিতাস কলোনি, সান্দিরা জোকা মৌজার অংশ (পূর্ব-পশ্চিম বক্সনগর ও করিম কলোনী), সারুলিয়া টেংরা (দক্ষিণ, পশ্চিম ও বাহির টেংরা) নিয়ে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত হয়েছে। এখানে দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হলেও ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৬৮০ জন।

সংসদীয় ঢাকা-৫ আসনের ডিএনডির অভ্যন্তরসহ এ এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন অন্তহীন নাগরিক দুর্ভোগে। ওয়ার্ডের বেশিরভাগ এলাকায় জলজট, বিদ্যুৎজট, খানাখন্দ সড়ক, অতিরিক্ত মশা-মাছি, বেওয়ারীশ কুকুরের উপদ্রব, নোংরা পরিবেশ, যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়সহ নানা নাগরিক সমস্যায় রয়েছেন অধিবাসীরা। যথাযোগ্য স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এখানে। মাদক-সন্ত্রাস, প্রভাবশালী মহলের অধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখানকার প্রধান সমস্যা। তাছাড়া সর্বত্রই অব্যবস্থাপনা, অন্যান্য অবৈধ দখল, সামান্য বৃষ্টিতেই স্থায়ী জলাবদ্ধতা, সন্ত্রাস-মাদক ও চাঁদাবাজিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ ওয়ার্ড। সড়কে অতিরিক্ত ধূলাবালি থাকায় চলাচলে নাভিশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। এখানে কোন কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক-শিশু পার্ক, স্টেডিয়াম, পাবলিক টয়লেট ও পাবলিক লাইব্রেরীসহ কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। সরেজমিন দেখা গেছে, ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ঘনবসতি ও ঘিঞ্জি পরিবেশে চলাফেরায় নাভিশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। সড়কে নেই সড়ক বাতি। অধিকাংশ এলাকায় সন্ধা নামতেই বিদঘুটে অন্ধাকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক এলাকার কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন-সাবেক বৃহত্তর মাতুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি, বর্তমান সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ডেমরা থানা কমিউনিটি পুলিশ ও বাংলাদেশ ট্রাক মালিক সমিতির (সারুলিয়া,সান্দিরা ও ডেমরা শাখা) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী (টিফিন ক্যারিয়ার), সারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মালেক খান (ঘুড়ি), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো. ইবরাহীম (লাটিম), সারুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান (ঠেলাগাড়ি), সারুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস.এম রেজা চৌধুরী সেলিম (ঝুড়ি), ডেমরা থানা কৃষক লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইউনুছ মিয়া বাহার (ট্রাক্টর), মো. নুরুল আলম মজুমদার (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), ও মো. মজিবুর রহমান দুলাল (রেডিও)। এ ওয়ার্ডে ৮ জন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় সরগম হয়ে উঠেছে এলাকা।
মোহাম্মদ আলী বলেন, এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরেই সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছি। তাছাড়া মসজিদ-মাদরাসা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে কমিটিতে থেকে সেবা দিয়ে আসছি। এবার ৬৭ নং ওয়ার্ডটিকে সু-পরিকল্পিতভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচন করছি। নির্বাচিত হলে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি অদ্বিতীয় ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব। মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করে অবহেলীত এই ওয়ার্ডে শিক্ষার হার শতভাগে নিয়ে আসব। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে অদক্ষ শ্রমিকসহ সমাজের অবহেলীত নারী পুরুষদের কর্মক্ষম করে গড়ে তুলব। তাছাড়া এখানকার মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, শিশু-নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ নানা প্রতিবন্ধকতা পঞ্চায়েত ভিত্তিক কঠোরভাবে দমন করব। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে গভীর নলকূপ স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডাপিম্পং স্টেশন নির্মাণ, পার্ক-স্টেডিয়াম, গণপাঠাগার, সুষ্ঠ স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তা নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার ও হাসপাতাল নির্মাণ করব। সার্বিক নিরাপত্তাকল্পে ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ আধুনিক ওয়ার্ড গড়ে দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করব। সিটি কর্পোরেশনের সহযোগীতা নিয়ে দল মত নির্বিশেষে সবার মতামতের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব যা এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা।

সারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মালেক খান বলেন, গত ৮ বছর ধরে জনগনের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়ে সফল মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এবার সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগীতা ও বরাদ্ধের ভিত্তিতে জনগনের মনোনীত প্রার্থি হিসেবে ৬৭ নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক নাগরিক সুবিধা সংবলিত ওয়ার্ডে পরিণত করাই আমার মূল লক্ষ্য। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এখানকার স্থানীয় প্রভাবে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ উল্লেখযোগ্য সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আজও ভূমিকা রেখে চলেছি বলে ওয়ার্ডের স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও মাদক -সস্ত্রাস দূর করে ওয়ার্ডের প্রকৃত উন্নয়ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করব। পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে বাস্তবায়িত করে দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আগেও ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধগুলো ন্যায় নীতির সঙ্গে সুষম বন্টন করেছি। নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতেও সরকারী বরাদ্ধগুলো ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নে যথাযোগ্য ব্যবস্থা করব।

এস.এম রেজা চৌধুরী সেলিম  বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে অবশ্যই ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে করব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে ওয়ার্ডে পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করে মাদক-সন্ত্রাস প্রতিরোধ নয়, নির্মূল করে ছাড়ব। তাছাড়া অন্যান্য সব অপরাধ শক্ত হাতে দমনসহ সব প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা দূর করে ৬৭ নং ওয়ার্ডকে বসবাসযোগ্য একটি আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here