মাসুম আহাম্মদ, শিকড় সন্ধানে: আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দলের কমিটি ভাঙা বা নতুন কমিটি গঠন বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনও কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনও কমিটিও করা যাবে না। আর নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার একটা ঘটনা ঘটেছে বরগুনাতে এবং আরেকটা ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। তা আমরা মোটেও অ্যালাউ করবো না। কারও অভিযোগ থাকলে সরাসরি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযোগ দেবে। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমাধান করবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন। যদি আলোচনা যথেষ্ট না হয়, তাহলে দলের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবো।  কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে যারা সিদ্ধান্ত নেবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। যারা এসব করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজশাহীর নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনও কারণ আছে। প্রতিযোগিতাটা অসুস্থতা, অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের ডাকতেই হবে। এখন সবার এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে। রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছে থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়। অন্যরাইও চাইতে পারেন। আমাদের পার্টির ফান্ডও আছে, ২৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে, এবার ভাবছি আরেকটু বাড়াবো।’

কাদের বলেন, ‘চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে। দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে। যেটা হওয়ার কথা ছিল বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী প্রচারণা হচ্ছে। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।’

কাদের বলেন, ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলানামা, এসিআর আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেওয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় দল তাকে মূল্যায়ন করবে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here