নোয়াখালী সংবাদদাতা, শিকড় সন্ধানে: নোয়াখালীর বেদেপল্লীতে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করেছে। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণা ঠেকাতে এ মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। মামলায় প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ঘটনার মূল হোতাদের বিরুদ্ধে মামলা না করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের ২১ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় জেলা বার সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে অনুরোধ জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে এজাহারে নাম না থাকলেও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নুরুন্নবী বাবুল, ছাত্রদল নেতা অনিকসহ অন্যদের গ্রেফতারের উদ্দেশে হয়রানি করছে ডিবি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাইজদী প্রধান সড়কে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। অপরদিকে বিএনপিকে জেলা শহর মাইজদীতে মিছিল, সমাবেশ করতে বাধা দিয়ে গণগ্রেফতার করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রে বিএনপির তালিকাভুক্ত এজেন্টদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েও হয়রানি করছে। শুক্রবার সকালেও ডিবি পুলিশ বেদেপল্লীর ঘটনাকে জড়িয়ে এলাকার নিরপরাধ ব্রিক ফিল্ডের শ্রমিক আবুল কালাম (২৬) ও পিক-আপ চালক সাহাব উদ্দিনকে (২৮) আটক করেছে।

মিথ্যা মামলার আসামিদের মধ্যে এওজবালিয়া ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন, ইউসুফ আলী, ৬নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি মো. শাহজাহান, ইউপি ছাত্রদল সহ-সভাপতি নাহিদ, যুবদল সহ-সভাপতি মোতালেব, ৫নং ওয়ার্ড যুবদল সহসাধারণ সম্পাদক সোহেল, ইউপি বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রতন, ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সহ-সভাপতি রাকিব, ৬নং ওয়ার্ড যুবদল যুগ্ম-সম্পাদক মো. ফারুক, ওয়ার্ড যুবদল নেতা নুর মোহাম্মদ, ওয়ার্ড দফতর সম্পাদক মাইন উদ্দিন, নোয়াখালী ইউনিয়নের সিরাজসহ ২১ জন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সলিম উল্যাহ বাহার হিরণ, সম্পাদক ভিপি জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কিরণ, কৃষক দলের জেলা সভাপতি রবিউল হাসান পলাশ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানুর রহমান, এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ইউপি বিএনপির সাবেক সদস্য ও ইউপি বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনির আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সলিম উল্যাহ বাহার হিরণ এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মো. শাহজাহান বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা পূর্ব শত্র“তার জেরে বেদেপল্লীতে দফায় দফায় হামলা ও ভাংচুর করে। তারা ৫০-৬০টি বেদে পরিবারের টিনের ঘর ভাংচুর ও ১১টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ১১০টি সাপ পুড়িয়ে মারে দুর্বৃত্তরা। তাদের আক্রমণে বেদে পরিবারের ৩০ জন আহত হয়। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গত ৫ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন ২৫০ জন নিঃস্ব মানুষ। জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here