ছবি: গোলাম রব্বানি

গোলাম রব্বানি, শিকড় সন্ধানে পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। পিচ ও পাথর উঠে খানা খন্দে ভরে গেছে পুরো রাস্তাটি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় স্বল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকছে রাস্তায়। বটতলা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ পর্যন্ত রাস্তাটি র্দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও সংস্কার হচ্ছে না।

পৌর মেয়র কসিরুল ইসলাম বলছেন, এ রাস্তাটি এলজিইডি’র হওয়ার কারণে সংস্কার করতে পারছেন না। আর এলজিইডি বলছে, পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়রা শিকড় সন্ধানে’কে জানায়, পীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র বটতলা হতে দক্ষিণে কাজী নজরুল ইসলাম সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক। ইতি মধ্যে পীরগঞ্জ পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হলেও পৌর ট্রেক্স খাজনা দ্বিগুন হয়েছে। কিন্তু এ সড়ক দিয়ে পৌরসভার রঘুনাথপুর গ্রামের সরকারপাড়া, পানুয়াপাড়া, ঈদগা বস্তিও মিত্রবাটি মহল্লার লোকজন চলাচল করে। এ সড়কে প্রাণি সম্পদ অফিস,পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস, টেলিফোন অফিস, ব্রাক অফিস, ইএসডিও এবং ঠেঙ্গামারা অফিস, রঘুনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, ইকো পাঠশালা, মহিলা কলেজ, আরএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন রাস্তার দুইপাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং দোকান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ৮নং দৌলতপুর, ১০ নং জাবরহাট, ১১নং বৈরচুনা ও ৯নং সেনগাও ইউনিয়নের লোকজন ও যানবাহন শহরে ঢুকার একমাত্র রাস্তা এটি। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের পাশাপশি শিক্ষার্থীরা এবং নানান প্রকার ভারী ও হালকা যান চলাচল করে। রাস্তাটি খাল-খন্দে ভরে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এদিকে রাস্তার পাশ্বে ড্রেন না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা জুড়ে পানি জমে থাকে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় যানবাহন চলাচলের ফলে জমে থাকা পানি কাদায় পরিণত হয় আর ঐ কাদা যুক্ত পানি ছিটকে কাপড় নষ্ট হয় পথচারীদের। খাল-খন্দের কারণে যানবাহন চলাচলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।

সরকারপাড়া মহল্লা বাসিন্দা দেলওয়ার হোসেন দুলাল সরকার, সালাম সরকার, পল্লী বিদ্যুতের সামনের বিশিষ্ট ঠিকাদার মিজানুর রহমান সহ অনেকে শিকড় সন্ধানে‘কে বলেন, আমরা নিয়মিত ভাবে পৌর কর পরিশোধ করছি। অথচ নাগরিক সেবা পাচ্ছি না। রাস্তাটি ভাঙ্গাচোড়া। পানি জমে থাকে। চলাচলের অযোগ্য। এ এলাকার মানুষ রাস্তাটির জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পৌরসভাকে বলা হচ্ছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় শিকড় সন্ধানের এই প্রতিবেদককে জানান, আমাদের ইউনিয়ন এলাকায় রাস্তাটি ভাল থাকলেও পৌরসভার অংশে অত্যন্ত খারাপ। আমরা যখন পৌরসভায় ঢুকি তখন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাস্তাটির অবস্থা দেখে মনে হয় এটি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের রাস্তার থেকেও খারাপ।

পৌর সভার প্রকৌশলী শাহজাহান আলী খান জানান, রাস্তাটি পৌরসভার নয়। এ কারণে তাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মেয়র কসিরুল ইসলাম এটি নিয়ে বিভিন্ন সভায় কথা বলেছেন। এলজিইডি রাস্তাটি পৌরসভাকে দিয়ে দিলেই সংস্কার কাজ করা যাবে। ততদিন পর্যন্ত পৌর সভার লোকজন ভুগান্তিতে থাকবে। এতে পৌর প্রশাসনের করার কিছুই নেই। এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য এই মুহুর্তে টাকা নেই। ঐ রাস্তাটির কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত দিলেই হয়ত একটা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here