সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিকড় সন্ধানে নোটিশ :
মিডিয়াভুক্ত সাপ্তাহিক শিকড় সন্ধানে পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। শিক্ষাগত যোগ্যতা : কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হবে। আবেদন করুন : editorshikornews@gmail.com  * প্রিয় পাঠক, আপনার প্রিয়জনের জন্মদিনের শুভেচ্ছা বা মৃত্যু সংবাদ ছবিসহ পাঠাতে পারেন।

মাদক পাচারের নিরাপদ রুট গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন!

মাসুম আহাম্মদ
রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১
গেন্ডরিয়া রেল স্টেশন ছবি : মো. রনি

রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন। মাদক পাচারের যেন নিরাপদ রুট ! সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদের কারনে পূর্বের চেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থায় পরিণত হয়েছে স্টেশন ও এর আশেপাশের অলি-গলি। এখানে রাতদিন প্রকাশ্য চলে মাদক বেঁচা-কেনা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড। আধিপত্য বিস্তারে গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয়রা রয়েছেন আতঙ্কে।

নারায়ণগঞ্জ কিংবা ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে কোনো ডেমো ট্রেন আসলে দেখা যায়, এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারী ও তাদের ক্যাডারদের ছুটোছুটি। ট্রেনে বহন করে নিয়ে আসা বিভিন্ন ধরনের মাদক ডেলিভারী নিতে ওরা ছুটে নির্ধারিত বগিতে। এমনকি ট্রেনের ছাদে উঠে বহনকারীদের কাছ থেকে মাদক প্রকাশ্যে হাত বদল হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১ টার সময় গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশনে এমনই চিত্র দেখা যায়। শিকড় সন্ধানে’র ক্যামেরায় ধরা পড়ে। হলুদ টি-শার্ট পরিহিত এক মাদক বহনকারীর কয়েকটি  ছবি দেখলে তা স্পস্ট হয়ে উঠে ।

 

 

 

 

ছবিগুলো তুলেছেন : মো. রনি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে এখানে নানা অপরাধীদের প্রতিদিন যেন মিলনমেলা ঘটে। বড়দের সাথে ইদানিং শিশু-কিশোরেরা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। পুলিশী অভিযান শেষে ফের জমে উঠে অপরাধীদের আড্ডা। এদের কারণে এলাকায় ছিনতাই ও চুরি বেড়ে গেছে। এখানে ভাসমান যৌনকর্মীদের আনাগোনা, ছিনতাইকারীর ভয় ও অজ্ঞান পার্টির কারণে সন্ধ্যার পর সাধারণ মহিলাদের চলাফেরা কমে এসেছে।

জানা যায়, গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কয়েকটি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। যাতায়াতের সুবিধার ফলে এখানে যাত্রীর তেমন কমতি নেই। এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার যাত্রী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পথে যাতায়াত করে। ইদানিং এখানে মাদকাসক্তদের অবাধ বিচরণের ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা রয়েছে হুমকির মুখে।

স্থানীয় এক মুদী ব্যবসায়ী শিকড় সন্ধানে’কে বলেন, গেন্ডারিয়া স্টেশনে ট্রেন থামতেই এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদককারবারিদের হৈ-হুল্লোর বেড়ে যায়। ওরা ট্রেনে আসা ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল নিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। করোনাকালেও থেমে থাকেনি ওদের কারবার। ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রায় ওদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দেশীয় অস্ত্র নিয়েও মহড়া দিতে দেখা যায়।

ওইদিন দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন ও এর লাইনের উপর জটলা বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে ভবঘুরে ও ভাসমান যৌনকর্মীরা। এক উঠতি বয়সের কিশোর ধারালো ছুরি নিয়ে প্রকাশ্য হাটাহাটি করছে। স্টেশনের উত্তরপাশে গাঁজার ধোঁয়া উড়ছে। গাঁজার উৎকট গন্ধে অপেক্ষমান এক মহিলা যাত্রী মাস্কের উপরে নাক চেপে দাঁড়িয়ে আছেন। সোহেলী ও মুন্নী যাবেন কমলাপুরে। জানতে চাইলে ক্ষোভ করে বলেন, ভীড়ের সময় প্ল্যাটফরমে দাঁড়ানোই যায় না। পুরুষেরা পেছন থেকে ধাক্কা-ধাক্কি করে। এখানে মহিলা যাত্রীদের জন্য তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। এখানে ছিনতাইকারীরা কানের দুল, গলার চেইন, হাতে থাকা মোবাইল ফোন প্রায়ই ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

রেলওয়ে স্টেশনটির একমাত্র গণচৌশাগার (টয়লেট) থাকে ২৪ ঘন্টা তালাবদ্ধ। কর্মরত এক মহিলা সুইপার কোমরে চাবি নিয়ে ঘুরে বেড়ান। যাত্রী প্রতি ২০-৩০ টাকা দিলে তালা খুলে দেয়া হয়।

তালাবদ্ধ গণচৌশাগারের দরজার সামনে বখাটে ও নেশাখোররা আড্ডা দিতে দেখা যায়।  ছবি : মাসুম আহাম্মদ

এ প্রসঙ্গে স্টেশন মাস্টার শাহাদাৎ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

রেলওয়ের পুলিশ শিকড় সন্ধানে’র এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বহনের অভিযোগে মামলা করছে পুলিশ। আটকও করা হচ্ছে। কিন্তু আইনের ফাঁক-ফোকড়ে ও সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে অভিযুক্তদের অনেকেই পার পেয়ে যায়। জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার মাঠে নামে।

এসএস/রনি/এমএ

 

 


Theme Created By ThemesDealer.Com
Translate »