
নির্বাচনের বাঁশীতে ফুঁ পড়ার সাথে সাথে বাজতে শুরু করেছে সন্ত্রাসের ডংকা। গত সোমবার রাজধানী ও বরিশালে যুবদলের দুই কর্মী সন্ত্রাসী হামলায় মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় এক যুবদল নেতাকে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বিগত গত ১০ মাসে রাজধানীতে ১৯৮টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গড়ে প্রতি মাসে রাজধানীতে প্রায় ২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘাটে।
দেশে উগ্রবাদীদের উত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির নানামুখী চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক মহল উদ্বিগ্ন। দেশের এই মূহুর্তের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করছেন নির্বাচন বানচাল করতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা নির্বাচনী তরীতে উঠেছে বটে,তবে শংকা নিয়েই এগুচ্ছে। অন্যান্য কিছু রাজনৈতিক দলও শংকায় আছে। উগ্রবাদীদের উত্থান এবং সামনের দিনের অস্থিরতা,সংঘাতের যে শংকা করা হচ্ছে তা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হবে না।
পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানতে পারি , গত বছরের ৫ আগস্ট ও তারপর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের অস্ত্র লুট হয়েছে ৫ হাজার ৭৫০টি। এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৩টি। যা লুট হওয়া মোট অস্ত্রের প্রায় ৭৬ শতাংশ। লুট হওয়া গোলাবারুদের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮২৬ রাউন্ড। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড। পুলিশের তথ্য মতে ২৪ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
এসব অস্ত্র পেশাদার সন্ত্রাসী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি বা লাইট মেশিনগান, বিদেশি পিস্তল, শটগান, চায়নিজ রাইফেল । আর গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন ধরণের গুলি, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড, ফ্ল্যাশ ব্যাংক গ্রেনেড ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে। অনেকে ধারণা করছেন এই সংখ্যা আরো বেশী হতে পারে।
পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত নয় এসব খোয়া যাওয়া অস্ত্র কাদের হাতে আছে। যদি সুপ্রশিক্ষিত কোন কোন জঙ্গি সংগঠনের হাতে থাকে তবে তা আতংকের বিষয়। আমরা আশা করব এসব অস্ত্র উদ্ধার করে জনমনে ও রাষ্ট্রে স্বস্তি আনবে সরকার।
তবে বর্তমান আইন শৃঙ্খলা নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, লুট হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে এবং দেশের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আটকাতে বিজিবিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আস্থা নিয়েই বলছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রগতিতে অন্তর্বর্তী সরকার সন্তুষ্ট। নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৫০ হাজার আনসার সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এবারের নির্বাচনে বড় একটি দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে অংশ নিতে পারবেনা। প্রধাণ উপদেষ্টা সরাসরি এটি বলেছেন। আওয়ামী লীগ কি চুপচাপ বসে থাকবে?এই দলটির স্বভাব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি সে তার অবস্থান নানাভাবে জানান দেবে। ভেতরে ভেতরে হালুয়া রুটি খাচ্ছে এমন কিছু অংশও নির্বাচন নিয়ে গোপন বিরোধিতা করছে বলে কিছু রাজনৈতিক দলেরই অভিযোগ আছে।
তবে দেশের মানুষ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায় কায়মনোবাক্যে। সকলের অংশ গ্রহণে ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই স্থিতিশীলতা থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও সরকার গঠনে অংশগ্রহণমূলক এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনই শেষ ভরসা।
লেখক : মাঈনুদ্দীন দুলাল, সাংবাদিক
বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউবিডি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)





