
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা। তবে সংবিধানের সীমাবদ্ধতা ও সংসদের বিদ্যমান আসন বিন্যাসের কারণে এই নির্বাচনকে বড় কোনো পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন না বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মতে, বর্তমান কাঠামোতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মূলত একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা
সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে কেবল প্রধান বিচারপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্যের কথা বলা হলেও, সরকারের পদক্ষেপে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিরোধীদের। দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি জুলাই সনদের সংস্কার ভাবনাগুলো থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁরা বলছেন, বর্তমান কাঠামোতে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই সব নির্ধারণ করায় রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে সরকারি দলের ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
বিরোধী নেতাদের প্রত্যাশা ও বিকল্প প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতির পদটিকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে এমন ব্যক্তির হাতেই দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি কোনো দলের নন, তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মতে, সংসদ সদস্যদের দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করা অথবা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে রেখে নীতিগত উন্নয়ন করার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হয়নি বলে মনে করেন তিনি।








