
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানোয় উৎসাহিত করতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাগালযোগ্য সেবা বাড়াতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি আগস্টের মধ্যভাগেই এই নতুন সুবিধাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।
নতুন এই প্রবাসী কার্ডের আওতায় রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কার্ডটি ড্যুয়াল কারেন্সি বা দ্বৈত মুদ্রা সমর্থন করায় প্রবাসীরা দেশ ও বিদেশ—উভয় স্থান থেকেই সহজে অনলাইনে লেনদেন ও কেনাকাটা করতে পারবেন। এ ছাড়া ভ্রমণ ও আবাসন সুবিধা সহজ করতে বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে মূল্যছাড়ের পাশাপাশি বিমানবন্দরে লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। একই সঙ্গে দেশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ‘প্রবাসী সিটি’ ও আবাসন প্রকল্পে কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বর্ধিত রেমিট্যান্স প্রণোদনা। বর্তমানে প্রচলিত আড়াই শতাংশ প্রণোদনার পরিবর্তে প্রবাসী কার্ড ব্যবহারকারীরা পাবেন ৩ শতাংশ হারে সরকারি প্রণোদনা। এর বাইরে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) আওতাভুক্ত বীমা, সামাজিক সুরক্ষা, দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন সুবিধাগুলোও এতে যুক্ত থাকবে।
উদ্যোগটির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, চলতি বছরের মধ্যে অন্তত দুই লাখ প্রবাসীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচ হাজার প্রবাসীর মাধ্যমে কার্যক্রমটি শুরু হবে। এই পরীক্ষামূলক ধাপ সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সকল প্রবাসীর হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, সুবিধাগুলো সঠিকভাবে দেওয়া হলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে। তবে অতীতে বিএমইটি সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির অভিজ্ঞতা রয়েছে, এই কার্ড বিতরণের সময় যেন প্রবাসীদের তেমন কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়—সেদিকে সতর্ক নজর রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।








