
আলিয়া ও ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে স্কুল-কলেজের মতো সমান সুযোগ-সুবিধার দাবি জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইএফটির মাধ্যমে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা, ইএফটি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নিয়মিত ইএফটির মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরা হয়। এছাড়াও ২০ দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবিএম জাকারিয়া। এ সময় তিনি ২০ দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি মহাপরিচালকের হাতে তুলে দেন।
জাতীয় শিক্ষক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: এমপিওভুক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বচ্ছ, সহজ ও বাস্তবসম্মত বদলি নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করা।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
মাদরাসায় অনার্স পর্যায়ে পাঠদানরত যোগ্য ও কর্মরত শিক্ষকদের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দ্রুত এমপিওভুক্ত করা। দেশের প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া।
সব যোগ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে ইএফটির মাধ্যমে পাওয়ার ব্যবস্থা করা এবং ইএফটি-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা।
নাম, পদ, বিষয়, যোগদানের তারিখ ও ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনে অনলাইনভিত্তিক সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা। শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনের ভিত্তিতে পদ সৃষ্টি এবং বিদ্যমান শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম, জন্মতারিখ ও ব্যাংক হিসাব সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধনী নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ঝুলে থাকা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত গ্রহণ ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা। এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের জটিলতা নিরসন, আরবি প্রভাষকদের উপাধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি ও স্বচ্ছ বদলি নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নবম সার্কুলার প্রকাশের মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের বয়সসীমা অতিক্রমের আগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। মাদরাসা শিক্ষা-সংক্রান্ত জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটি, সভা ও সেমিনারে জাতীয় শিক্ষক ফোরামকে প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। আলিয়া মাদরাসার শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের নতুন কারিকুলামে মাদরাসার জন্য সুস্পষ্ট ও যুগোপযোগী নির্দেশনা দেওয়া। বৈষম্য দূরীকরণে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আলিয়া মাদরাসা জাতীয়করণ করা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত উপবৃত্তি চালু করা। ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা।ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও ইএফটির আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। এমপিওভুক্ত নৈশ প্রহরীদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও ছুটির নীতিমালা প্রণয়ন করা। মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা অধিদপ্তরে অফিসিয়াল কাজে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।
এ সময় জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি ও মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, তেজগাঁওয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, সহসভাপতি ও কুড়িগ্রাম কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নূর বখত, সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক ডা. আব্দুস সবুর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল কেএম জাহিদ তিতুমীর, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা আলী আকবর সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম আমীর হুসাইন, কেন্দ্রীয় ইবতেদায়ি মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক প্রভাষক এম ইউসুফ আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতরা উপস্থিত ছিলেন।




