, ।
।

যে ছয় সিনেমায় অমর অভিনেতা নানা পাটেকর

শিকড় সন্ধানে ডেস্ক

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার গোয়ার নিজ বাসভবনে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। চার দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে ভিন্নধর্মী চরিত্র, তীব্র সংলাপ পরিবেশন এবং চরিত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন নিজস্ব এক অভিনয়শৈলী।

নানা পাটেকরের অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল চরিত্রের ধরন দিয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রাখা। কখনো ভয়ংকর খলনায়ক, কখনো প্রতিবাদী মানুষ, আবার কখনো বাবা, সৈনিক কিংবা আবেগপ্রবণ চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। অভিনয়জীবনে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন এই অভিনেতা।

‘পারিন্দা’ (১৯৮৯): বিদু বিনোদ চোপড়ার এই অপরাধভিত্তিক সিনেমায় ‘আন্না’ নামের ভয়ংকর গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেন নানা। নির্মম ও আতঙ্ক ছড়ানো চরিত্রটিকে এমন তীব্রতায় পর্দায় তুলে ধরেছিলেন যে এটি তার ক্যারারের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হয়ে যায়। এই চরিত্রের জন্যই প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান তিনি।

‘ক্রান্তিবীর’ (১৯৯৪): প্রতাপ নারায়ণ তিলকের চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয়কে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক হতাশ মানুষ কীভাবে নতুন করে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পায়, সেই গল্পে তার শক্তিশালী অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। এ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ (১৯৯১): এই সামরিকভিত্তিক সিনেমায় মেজর চৌহানের ভূমিকায় অভিনয় করেন নানা। শুধু অভিনয়েই থেমে থাকেননি, সিনেমাটির পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। পাশাপাশি লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ফলে ‘প্রহার’ তার অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবে তার প্রতিভারও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে আছে।

‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ (১৯৯৬): সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালনায় অভিষেক সিনেমায় নানা অভিনয় করেন জোসেফ চরিত্রে। গোয়ার এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবার ভূমিকায় তার সংযত ও আবেগঘন অভিনয় দর্শকদের আলাদাভাবে নাড়া দেয়। সিনেমাটি মুক্তির সময় বড় বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও পরবর্তী সময়ে এর মূল্যায়ন অনেক বেড়ে যায়।

‘অগ্নি সাক্ষী’ (১৯৯৬): মনস্তাত্ত্বিক এই সিনেমায় নানা অভিনয় করেন এক ভয়ংকর ও অধিকারবোধে আচ্ছন্ন স্বামীর চরিত্রে। অতীতের সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া স্ত্রীর নতুন জীবনে তার উপস্থিতি কীভাবে আতঙ্ক তৈরি করে, সেটিই ছিল গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অস্বস্তিকর ও ভীতিকর চরিত্রটিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তৃতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন নানা।

‘সালাম বোম্বে!’ (১৯৮৮): ‘পারিন্দা’র আন্না চরিত্রে বড় সাফল্যের আগে মীরা নায়ারের প্রশংসিত সিনেমা ‘সালাম বোম্বে!’-তেও অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। মুম্বাইয়ের পথশিশুদের কঠিন জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটিতে তার উপস্থিতি ছিল সমাজবাস্তবতাভিত্তিক অভিনয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

খলনায়ক থেকে পুলিশ, সৈনিক থেকে বাবা কিংবা জনপ্রিয় কমেডি চরিত্র, নানা পাটেকর কখনো একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে আটকে থাকেননি। তার অভিনয়ের তীব্রতা এমন ছিল যে ছোট পরিসরের চরিত্রও দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যেত। চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সেই স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীই তাকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় অভিনেতায় পরিণত করেছে।

শিস/এমএ

শেয়ার করুন:

সাপ্তাহিক শিকড় সন্ধানে’র অনলাইন সংস্করণ

সম্পাদক  : মাসুম আহম্মেদ

যোগাযোগ :
Email : editorshikornews@gmail.com
Web : www.shikorsandhane.com

©২০২৬ শিকড়সন্ধানেডটকম কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট : Kolpotoru IT.