,

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা: ১৫ পুলিশসহ নিহত বেড়ে ২৭

শিকড় সন্ধানে ডেস্ক

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনের একটি ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের প্রতিহত করা হয়। আরো কয়েকজন স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি মসজিদে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার পর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইনে এ হামলা হয়। এতে আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর ডন।

জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি ডনকে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর সাতজন সন্ত্রাসী পুলিশ লাইনে ঢোকার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনের একটি ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের প্রতিহত করা হয়। আরো কয়েকজন স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়।

পুলিশের সিটিডি জানিয়েছে, হামলার পর অতিরিক্ত আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে অংশ নেন এবং সদস্যদের নেতৃত্ব দেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে। আইজি জুলফিকার হামিদ বলেন, হামলাকারীদের পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। পুলিশ সদস্যদের মনোবল অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হামলার ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গভীরভাবে দুঃখজনক।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। জারদারি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরণের প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।

কোহাট পুলিশ লাইনে এর আগেও বড় ধরনের হামলা হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি আহত হন।

শেয়ার করুন:

সাপ্তাহিক শিকড় সন্ধানে’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান

সম্পাদক  : মাসুম আহম্মেদ

যোগাযোগ :
Email : editorshikornews@gmail.com
Web : www.shikorsandhane.com

©২০২৬ শিকড়সন্ধানেডটকম কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট : Kolpotoru IT.
Exit mobile version