,

লিভারপুল ছাড়লেন দুই মৌসুমে ৬৭০ মিলিয়ন খরচ করা হিউজ

শিকড় স্পোর্টস

লিভারপুলে রিচার্ড হিউজ অধ্যায়ের সমাপ্তি হচ্ছে। মাত্র দুই বছরের দায়িত্বেই বড় অঙ্কের ব্যয়, কোচ নিয়োগ-বদল আর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা এই স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবার অ্যানফিল্ড ছাড়ছেন। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।

হিউজের বিদায়ের খবরটি এসেছে ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের (এফএসজি) ফুটবল বিভাগের প্রধান নির্বাহী মাইকেল এডওয়ার্ডসের সরে দাঁড়ানোর পরপরই। ফলে অ্যানফিল্ডের বোর্ডরুমে পরিবর্তনের হাওয়া আরও জোরালো হলো।

লিভারপুলকে হিউজ জানিয়েছিলেন, বছরের শুরুতেই তিনি দায়িত্ব ছাড়তে চান। তবে গুরুত্বপূর্ণ দলবদল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে থাকার অনুরোধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সময়সীমা পেরিয়েই বিদায় নিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই চলতি দলবদলে ব্র্যাডলি বারকোলাকে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে টেনেছে লিভারপুল।

দুই বছরের সময়ে হিউজের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের উত্তরসূরি হিসেবে আর্নে স্লটকে নিয়োগ দেওয়া। প্রথম মৌসুমেই স্লটের অধীনে প্রিমিয়ার লিগ জেতে লিভারপুল। কিন্তু পরের মৌসুমে দল পঞ্চম স্থানে শেষ করলে ডাচ কোচকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্তও আসে হিউজের হাত ধরেই। এরপর দায়িত্ব দেওয়া হয় আন্দোনি ইরাওলাকে।

ইরাওলার সঙ্গে হিউজের সম্পর্ক অবশ্য এরও পুরোনো। বোর্নমাউথে প্রথম তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন হিউজই। পরে অ্যানফিল্ডেও তাকে নিয়ে আসেন। চলতি গ্রীষ্মে হিউজের সঙ্গে ইরাওলার সেই সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছিল লিভারপুল। বিশেষ করে বারকোলাকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে হিউজের আগেভাগে সরে যাওয়া নিয়ে ক্লাবের উদ্বেগ ছিল—গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা ছিল তাদের।

হিউজের সময়ে লিভারপুলে অর্থ খরচও হয়েছে নজিরবিহীন হারে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে ক্লাবটি দলবদলের বাজারে বড়সড় ঝড় তোলে। ফ্লোরিয়ান ভির্টজকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে এনে লিভারপুলের ইতিহাসে প্রথম শত-মিলিয়ন পাউন্ডের খেলোয়াড় বানানো হয়। এরপর ব্রিটিশ রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে যোগ দেন আলেক্সান্ডার ইসাক। বারকোলার আগমন মিলিয়ে হিউজের সময়ে লিভারপুলের মোট ট্রান্সফার ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন পাউন্ড।

এখন হিউজের উত্তরসূরি খোঁজার কাজ শুরু করেছে লিভারপুল। সেই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এফএসজি প্রেসিডেন্ট মাইক গর্ডন। স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্ব সামলাতে প্রস্তুত ক্লাবের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—এফএসজি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জুলিয়ান ওয়ার্ড, ফুটবল ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর পেদ্রো মার্কেস, অ্যাসিস্ট্যান্ট স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেভিড উডফাইন, প্রধান স্কাউট ব্যারি হান্টার এবং কোচ ইরাওলা।

শেয়ার করুন:

সাপ্তাহিক শিকড় সন্ধানে’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান

সম্পাদক  : মাসুম আহম্মেদ

যোগাযোগ :
Email : editorshikornews@gmail.com
Web : www.shikorsandhane.com

©২০২৬ শিকড়সন্ধানেডটকম কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট : Kolpotoru IT.
Exit mobile version