
পাহাড়ের সবুজ আর সমুদ্রের নীল জলরাশির মিতালি দেখতে সীতাকুণ্ডে ছুটছেন পর্যটকেরা। দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হতেই চট্টগ্রামের এ জনপদের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বেড়েছে মানুষের ভিড়। চন্দ্রনাথ পাহাড় থেকে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত; সবখানেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের আনাগোনা অন্য সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতিতে ব্যস্ততা বেড়েছে স্থানীয় দোকানপাট, খাবার ও আবাসিক হোটেলগুলোতে। ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এখানাকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের ধরনও বৈচিত্র্যময়। চন্দ্রনাথের পাহাড়ি পথ বেয়ে ওঠা, গুলিয়াখালীতে সবুজ ঘাসের গালিচার স্নিগ্ধ ছোঁয়া আর দিগন্তজোড়া সৈকতে সমূদ্রস্নান; সহস্রধারার জলরাশি ও পাহাড়ঘেরা পরিবেশ এবং ভাটিয়ারীর সানসেট পয়েন্ট ও মাটিটা’র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা অনেকেই ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। ছুটিতে চেনা কর্মব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে তাই সীতাকুণ্ডকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমনপ্রেমীরা।
ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে ঘুরতে এসেছেন এপেক্স রাফসান, ফরিদ আল হাসান, রফিকুল ইসলামসহ ১০ জনের একটি দল। দলের সদস্যরা বলেন, এ নিয়ে আমরা ১০ বার সীতাকুণ্ডে এসেছি। পাহাড় আর সমুদ্রের এমন অপরূপ মেলবন্ধন আমরা কোথাও দেখিনি। তাদের মতে, প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যই বারবার সীতাকুণ্ডে টেনে আনে তাদের।
পর্যটকদের বাড়তি ভিড়ে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকার দোকানি মো. রফিক বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। পূজার ছুটি পর্যন্ত এ ভিড় থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। একই কথা জানিয়েছেন গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতের খাবারের হোটেলমালিক জিয়া উদ্দিন। পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ায় ছুটির বাকি দিনগুলোতেও ব্যবসা ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের আহবায়ক জহিরুল ইসলাম বলেছেন, সীতাকুণ্ডের পর্যটন খাতে সম্ভাব্য বাড়তি ব্যস্ততা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ যাতায়াত, মানসম্মত খাবার, ন্যায্য মূল্য এবং পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ ও থানা-পুলিশ। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, পূজার ছুটিতে পর্যটকদের বরণে উপজেলা প্রশাসনের শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড বাজারে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শীতের আগমনী মুহূর্তে সীতাকুণ্ডের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রই এখন পর্যটকবান্ধব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টুরিস্ট পুলিশ সীতাকুণ্ড জোনের উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ টহল পুলিশ কাজ করবে। সন্ধ্যার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবস্থান না করতে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানান, পূজা উপলক্ষে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল কাজ করবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও পুলিশের এ তৎপরতার আওতায় থাকবে। একই সাথে পর্যটকদের পাহাড়ি পথে চলাচলে সতর্ক থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন মহিনুল ইসলাম।
এসএস/এমএ








