শাই হোপের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি আর কিমো পলের পাঁচ উইকেটের দাপটে ভারতকে ২৪ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বুধবার হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৪৭ রান করে ক্যারিবীয়রা। জবাবে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ফিফটি ও তিলক ভার্মার লড়াই সত্ত্বেও ১৯.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৩ রান করে ভারত। এই জয়ে সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন হোপ ও জুয়েল অ্যান্ড্রু। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারেই ১ উইকেটে ৭৯ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লে সংগ্রহের যৌথ রেকর্ড। ১৬ বলে ২১ রান করে অ্যান্ড্রু ফিরলেও রানের গতি কমেনি। এরপর ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন শিমরন হেটমায়ার। মাত্র ১২ বলে ৩৩ রান করেন তিনি, ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা।
অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে রানের গতি ধরে রাখেন অধিনায়ক হোপ। ১৭ বলে ২৪ রান করে রভম্যান পাওয়েল ফিরলেও ক্যারিবীয়দের আক্রমণ থামেনি। শেষ দিকে শেরফেন রাদারফোর্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন হোপ। ৫০ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে শেষ বলেও ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। অন্যদিকে ২৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন রাদারফোর্ড। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ৪৩ বলে ওঠে ৯১ রান। তাতে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেন মায়াঙ্ক যাদব ও আর্শদীপ সিং। দুজনই চার ওভারে ৫২ রান করে দেন। আর্শদীপ একটি উইকেট পেলেও মায়াঙ্ক থাকেন উইকেটশূন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ১৬টি ছক্কা ও ১৮টি অতিরিক্ত রানও ভারতের বোলিংয়ের চাপ বাড়ায়। ফিল্ডিংয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ পায় সফরকারীরা।
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝোড়ো শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রান করে ভারতকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারে স্যামসনকে ফিরিয়ে ভারতের ছন্দে প্রথম বড় ধাক্কা দেন কিমো পল। এরপর ঈশান কিষানকে ৬ রানে ফিরিয়ে চাপ বাড়ান ক্যারিবীয় পেসার। অভিষেক শর্মা ২৯ ও শ্রেয়াস আইয়ার ১৬ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নমান ধীর গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরলে চাপে পড়ে ভারত।
এরপর তিলক ভার্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডি পাল্টা লড়াই শুরু করেন। দুজনের ৭০ রানের জুটি ভারতকে আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখায়। ২৫ বলে ৪৩ রান করে তিলক আউট হলে সেই জুটি ভাঙে; তাঁকে ফেরান রোমারিও শেফার্ড। পরে ৪১ রান করা নীতীশকে আউট করেন পল। একই ওভারে প্রিন্স যাদবকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন ক্যারিবীয় পেসার। এরপর অক্ষর প্যাটেলকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পলের এই স্পেলেই ভারতের জয়ের আশা বড় ধাক্কা খায়। শেষ দিকে আর্শদীপ সিং রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় ১৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেটে ২২৩ রানে থামে ভারতের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পল চার ওভারে ৪১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। গুদাকেশ মোতি পান দুটি উইকেট। ব্যাট হাতে হোপের অপরাজিত শতক এবং বল হাতে পলের পাঁচ উইকেট—দুই বিভাগেই ক্যারিবীয়দের কার্যকর পারফরম্যান্সে নিশ্চিত হয় ২৪ রানের জয়।
এই শতক ছিল চলতি সিরিজে হোপের দ্বিতীয় এবং সফরে চতুর্থ। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর তৃতীয় শতক। ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসকে বড় সংগ্রহে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পলের বোলিং ভারতের রান তাড়ার ভিতও ভেঙে দেয়।
চতুর্থ ম্যাচের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ এখন ২-২ সমতায়। সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হবে শেষ ম্যাচে, যা ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
