
শেষ উইকেটে বেশ প্রতিরোধ গড়ে ফেলেছিলেন জোমেল ওয়ারিকান আর জেইডেন সিলস। ৬৭ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেন তারা। শেষ পর্যন্ত এই জুটিটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
জেইডেন সিলসকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করেন মিরাজ। ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়ারিকান। সিলেট টেস্টে ১০৬.৪ ওভার খেলে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হাসান মাহমুদ ৯০ রান খরচায় একাই নিয়েছেন ৬টি উইকেট। ২টি করে উইকেট শিকার তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের।
২৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এদিন প্রথম সেশনে দারুণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। হাসান মাহমুদ তুলে নিয়েছেন নিজের ফাইফার। ৮ উইকেটে ৩২২ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সেশনে তাদের সংগ্রহ ছিল ৮৭ রান, হারিয়েছে ৪টি উইকেট।
প্রথম দিনে আলোক স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ ছিল বেশ কিছুক্ষণ। তৃতীয় সেশনে আলো বাড়ার কারণে আবারও মাঠে নামে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ না। মাত্র ৫ ওভার খেলা হলো। এরপর দিনের খেলাই শেষ করে দিতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।
অর্থাৎ, প্রথম দিনে সব মিলিয়ে খেলা হলো মোট ৭০ ওভার। নির্ধারিত ৯০ ওভারের চেয়ে ২০ ওভার কম হলো প্রথম দিনের খেলা। তাতে এগিয়ে থাকলো সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজই। মিডল অর্ডার ব্যাটার আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম দিন শেষে ৭০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রানে। ১১১ রানে জাঙ্গু এবং ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস। শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। সিলেট টেস্টের সকাল সকাল টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বড় বিপদে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাসকিন আহমেদ আর হাসান মাহমুদের তোপে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল ক্যারিবীয়রা।
বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ আর হাসান মাহমুদ শুরু থেকেই ক্যারিবীয়দের ঘাম ঝরিয়েছেন। একের পর এক আবেদন হয়েছে, ক্যাচও মিস হয়েছে।
তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে আর কোনো ফিল্ডারের সাহায্য লাগেনি। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দুই স্টাম্প উড়ে যায় ক্যারিবীয় ওপেনার ব্রেন্ডন কিংয়ের। ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১৩ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
পরের ওভারে হাসান মাহমুদও করেন বোল্ড। এবার সুইং বুঝতে না পেরে বল ছেড়ে দিয়েছিলেন কাভেম হজ। বল সরাসরি আঘাত করে তার স্টাম্পে। রানের খাতা খুলতে পারেননি হজ। ১৪ রানে ২ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।
জসুয়া ডা সিলভা শুরু করেন দেখেশুনে। তবে ১২ রানে তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাসকিন। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেখান থেকে আমির জাঙ্গু আর উইকম্যানের ১৩১ রানের বড় জুটি। উইকম্যানকে (৬১) হাসান মাহমুদ বোল্ড করে ভাঙেন এই জুটি।
তবে জাঙ্গু আবারও একটি বড় জুটি গড়ে তোলেন, এবার জাস্টিন গ্রেভসকে নিয়ে। ১০৬ রানের সেই জুটি দ্বিতীয় দিনের সকালেও প্রায় এক ঘণ্টা পার করে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এক ওভারে জোড়া আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ।
দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে আমির জাঙ্গুর স্টাম্প উড়িয়ে দেন হাসান। ২১২ বলে ১৩ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ১৩৩ রান আসে জাঙ্গুর ব্যাট থেকে। পরের বলে হাসান সুইংয়ে পরাস্ত করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রস্টন চেজকে। উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
হ্যাটট্রিকও হয়ে যাচ্ছিল। এর ঠিক পরের বলেই জসুয়া বিশপের পায়ে বল লাগলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে নেন তিনি। রিভিউতে দেখা যায়, বল পায়ে লাগার আগে ব্যাটে ছোঁয়া লেগেছে। হ্যাটট্রিক মিস হয়ে যায় হাসান মাহমুদের।
তবে বিশপকে (২৩) পরে আউট করেছেন হাসান মাহমুদই। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফাইফার পূরণ করেন এই পেসার। পরের ওভারে হাফসেঞ্চুরিয়ান (৫১) জাস্টিন গ্রেভসকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এসএস/এমএ









